04/01/2026 জালিয়াতির মাধ্যমে গার্মেন্ট দখল ও নারী উদ্যোক্তাকে ‘ডজন’ মামলায় হয়রানির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩৩
৫ আগস্ট পরবর্তী শিল্প-বাণিজ্য খাতের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ‘নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস লিমিটেড’ জবরদখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ মালিক এক নারী উদ্যোক্তাকে ডজনখানেক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও কারানির্যাতনের মাধ্যমে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবীরা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিক জামান গণমাধ্যমকে বলেন, "একটি সংঘবদ্ধ চক্র গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি জবরদখল করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডজনখানেক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে বিচারিক ও হাজতি নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভিকটিম তার বৈধ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পাবেন।"
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ জুন ওই নারী উদ্যোক্তাকে বিয়ে করার কথা বলে আসামি শামছুল ওয়াদুদ খন্দকার ঢাকা জজ কোর্ট এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রি না করে পরবর্তীতে করবেন মর্মে একটি হলফনামা সম্পাদন করেন। এরপর আসামির সঙ্গে ওই নারী উদ্যোক্তা বসবাস শুরু করেন। ব্যবসা ও অন্যান্য কাজের কথা বলে শামছুল ওয়াদুদ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
পরবর্তীতে আসামি বিয়ের হলফনামা অস্বীকার করেন এবং বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, বাদীর বাসা থেকে ৫৫ লাখ টাকার চেক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যান। ভুক্তভোগী নারী এসব বিষয়ে যোগাযোগ করলে আসামি তাকে হুমকি দেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওই চেক দিয়ে মামলা করার ভয় দেখান।
এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠান ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে তিনি আরও তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। এরপর থেকেই তাকে দমানোর জন্য একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাকে হয়রানি করতে ঢাকা, বগুড়া, নেত্রকোনা ও জামালপুরে তার বিরুদ্ধে ডজনেরও বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি নিজের বৈধ প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে গেলেও তাকে চাঁদাবাজি মামলার আসামি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে এই নারী উদ্যোক্তা তার সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।