সততার মাশুল: সিন্ডিকেট রুখে দিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মুখে অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা
দেশের স্বাস্থ্য খাতের বড় একটি প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহের কাজ না পেয়ে স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ
উঠেছে। একটি প্রভাবশালী আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কেবল ব্যবসায়িক ক্ষোভ নয়, বরং ওই কর্মকর্তার আসন্ন পদোন্নতি ঠেকানো এবং প্রশাসনের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
- #স্বাস্থ্য খাতের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহের
দরপত্র নিয়ে বিরোধ।
- #কাজ না পেয়ে 'হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড'-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ।
- #পিপিআর (PPR) ও কারিগরি মানদণ্ডে পিছিয়ে থাকায় কাজ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
- #পদোন্নতির ঠিক পূর্বমুহূর্তে দক্ষ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটা বিশেষ চক্র।
-#ষড়যন্ত্রের সঙ্গে গত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের
ইঙ্গিত।
মূল প্রতিবেদন:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা হাসপাতালগুলোকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আসবাবপত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড’ আটটি লটে অংশ নিলেও কারিগরি মানদণ্ড ও সরকারি বিধিমালা (PPR) অনুযায়ী সব লটে জয়ী হতে ব্যর্থ
হয়। এরপরই প্রতিষ্ঠানটি কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার
বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি অখ্যাত অনলাইন পোর্টালে দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলতে শুরু করে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাতিল কর্তৃপক্ষ গত ৮ জুন গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ জমা দিলেও সেখানে দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং কাজ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করে পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পদোন্নতি ঠেকানোর কৌশল প্রশাসনের
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সিভিল সার্ভিসে পদোন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পদোন্নতির ঠিক পূর্বমুহূর্তে নাফরিজা শ্যামার মতো একজন 'ক্লিন ইমেজের' ও দক্ষ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার এই হীন চেষ্টা মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গত পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলে সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তাদের একটি অংশ এবং কাজ না পাওয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট একজোট হয়ে এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তাদের এই অপতৎপরতার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যোগ্য কর্মকর্তাদের পথ রুদ্ধ করা এবং প্রশাসনের ভেতর অস্থিরতা তৈরি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গেলে প্রায়ই সিন্ডিকেটের বাধার মুখে পড়তে হয়। যখনই কোনো বড় প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে কাজ পেতে ব্যর্থ হয়, তখনই তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘চরিত্র হনন’ শুরু করে। নাফরিজা শ্যামার ক্ষেত্রেও একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচারে প্রকল্পের কাজ থামবে না। বরং যারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মানহানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের সচেতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, দক্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় সরকারের এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী প্রশাসনের চেইন অফ কমান্ড নষ্ট করতে না পারে।

-2021-08-29-21-21-25.gif)
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: